অবশেষে জানা গেলো যে কারণে বিপাকে আইপিএল!

হুমকির মুখে পড়েছে আইপিএল। করোনা ভাইরাস তার ভয়ঙ্কর থাবা বসিয়েছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের বায়োবাবলে। যে নিশ্ছিদ্র বাবল নিয়ে গর্ব করেছিলো বিসিসিআই, তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ খোদ ভারতেই?

তবে, এর জন্য যতটা না দায়ী বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া, তার চেয়েও বেশি দায়ী শাহরুখ খান। কি অবাক হলেন। ক্রিকেটারদের করোনা হচ্ছে, সেখানে এসআরকে কোথা থেকে এলো? সরাসরি দায় না নিতে হলেও, তা একেবারে এড়িয়ে যেতে পারবেন না বলিউড সুপারস্টার। কারণ, তার মালিকানাধীন কলকাতা নাইট রাইডার্সের গাফিলতির জন্যই যে এই বিষাক্ত ভাইরাসের প্রবেশ ঘটেছে আইপিএলের বায়োবাবলে।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই, এবারের আইপিএলের বায়ো-বাবলে কি করা যাবে, আর কি করা যাবে না তার একটা ফিরিস্তি ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর হাতে তুলে দিয়েছিলো গভর্নিং কমিটি। সেখানে পরিষ্কার বলা ছিলো, বায়োবাবল ব্রিচ করতে পারবেন না কোন ক্রিকেটার। বাইরে থেকে আসলে, সবাইকে বাধ্যতামূলক ৭ দিন কোয়ারেন্টিন করতে হবে নির্ধারিত হোটেলে।

যে রকম করেছিলেন সাকিব আল হাসান এবং মোস্তাফিজুর রহমান। কোয়ারেন্টিনের এ সময়কালে অন্তত তিনবার নেগেটিভ রেজাল্ট আসলেই কেবল, সে মাঠে নামার অনুমতি পাবে বলেও জানিয়ে দেয়া হয় মালিকদের।

সেভাবেই চলে আসছিলো সবকিছু। মাঝে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙালুরুর ক্রিকেটার দেবদত্ত পাড্ডিকাল পজেটিভ থেকে নেগেটিভ হয়ে, সরাসরি বায়োবাবলে ঢুকতে চাইলেও, নিয়মের বেড়াজালে আটকে যান তিনি। যেহেতু বাই রোড তিনি হোটেলে আসেন, তাই তাকেও কোয়ারেন্টিন করতে হয় দলের সঙ্গে যোগ দেয়ার আগে।

তবে, এবার নিজেদের করা সে নিয়ম মানেনি কেকেআর। আর নিয়ম শুধু ভেঙেই বসে থাকেনি তারা, মাঠেও নামিয়ে দিয়েছে বায়োবাবল ব্রিচ করা সেই ক্রিকেটারকে। যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে এখন পুরো আইপিএলকে।

দিল্লির বিপক্ষে ম্যাচের আগে হাঁটুর স্ক্যান করাতে হাসপাতালে যান কেকেআরের ক্রিকেটার ভরুণ চক্রবর্তী। কেকেআর থেকে দাবি করা হয়, সেসময় তিনি পিপিই কিট পড়া ছিলেন। তবে, আইন অনুযায়ী তিনি বাবলের বাইরে চলে যাবার পর আবার প্রবেশের আগে অবশ্যই কোয়ারেন্টিন করতে হতো।

কিন্তু, সে নিয়মের কোন বালাই রাখেনি কলকাতা। ভরুণকে বাবলে তো নিয়েই আসে তারা, পাশাপাশি ম্যাচেও নামিয়ে দেয় ম্যাককালাম-ডেভিড হাসিরা। অথচ বিষয়টি একবারের জন্যও জানানো হয়নি দিল্লি ক্যাপিটেলসকে।

পরে, সেই স্ক্যান রিপোর্টের পাশাপাশি, কোভিড পজেটিভ রিপোর্টও আসে ভরুণের। সঙ্গে সন্দীপ ওয়ারিয়রেরটাও পজেটিভ আসে। সন্দেহ দেখা গেছে প্যাট কামিন্সকে নিয়েও। এর আগে আইপিএল শুরুর আগে অসুস্থ ছিলেন কেকেআরের নিতিশ রানা।

তাদের রিপোর্ট আসার পর অবশ্য দ্রুততম সময়ে ম্যাচ বাতিল করে আইপিএল কমিটি। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমে জোর গুঞ্জন এ অবস্থাতেও ম্যাচ চালাতে চেয়েছিলো ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। পরে ভিরাট কোহলি ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানালে, স্থগিত করতে বাধ্য হয় তারা।

কেকেআরের টিম এ মুহূর্তে আহমেদাবাদে অবস্থান করছে। সেখানেই আপাতত পুরো টিমকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। অন্তত ৫ দিন তারা সেখানে অবস্থান করবেন। এসময় তিনবার তাদের করোনা টেস্ট করার কথা রয়েছে।

এদিকে, কেকেআরের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলা দিল্লী ক্যাপিটেলসকেও পর্যবেক্ষণে রেখেছে আইপিএল কমিটি। প্রয়োজন হলে তাদেরকেও আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া হবে।

কেকেআরের পর শোনা গিয়েছিলো চেন্নাই সুপার কিংসেও হানা পড়েছে কোভিড নাইন্টিন ভাইরাসের। তবে, তাদের কোন ক্রিকেটার নয়। প্রধান নির্বাহী কাশি বিশ্বনাথ, বোলিং কোচ লক্ষিপতী বালাজি এবং দলের যাতায়াতের বাসটির একজন পরিছন্নতাকর্মীর পজেটিভ রেজাল্ট এসেছে বলে জানানো হয়েছিলো টিমের পক্ষ থেকে। যদিও, বিসিসিআই এবং আইপিএলে কমিটির বৈঠকের পর তারা সবাই নেগেটিভ হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তারা সবাই ফলস পজেটিভ ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।

দলগুলোকে আবারো কঠিন বাবলে নিয়ে আসলেও খুব যে লাভ হবে তা কিন্তু নয়। কারণ, ইতোমধ্যে দিল্লীর ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামের মাঠ কর্মীদের অন্তত ৫ জন কোভিড আক্রান্ত হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে ভারতীয় গণমাধ্যমে। কিন্তু, বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে দিল্লী ক্রিকেট প্রশাসন।

বায়োবাবল ভেঙে গেছে, এটাই এখন বাস্তবতা। কিন্তু বিষয়টাকে এখনো মানতে নারাজ ফ্রাঞ্চাইজিগুলো। যে কোন মূল্যে এখনো আইপিএল চালিয়ে যেতে চান তারা। কারণ, অর্ধেক টাকা দিয়ে দেয়া হয়েছে ক্রিকেটারদের। সঙ্গে ব্রডকাস্টারদের চাপও আছে সৌরভ গাঙুলির ওপরে।

এখন তাই অপেক্ষা, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়? অর্থের ঝনঝানির বিপক্ষে জয়ী হতে পারে কি না জীবনের আহ্বান?

Facebook Comments Box