ঈদের আগে-পরে ৬ দিন গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের জন্য সোমবার (১০ মে) সকাল ৬টা থেকে আগামী শনিবার (১৫ মে) রাত ১০টা পর্যন্ত এবং ঈদুল ফিতরের দিন ও পরদিন বিবিয়ানা ও বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্র আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই কার্যক্রম চলাকালে এলেঙ্গা, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, জয়দেবপুর, ধনুয়া, আমিনবাজার, আশুলিয়া, সাভার, মানিকগঞ্জ, ভুলতা, আড়াইহাজার, তারাবো ও সংলগ্ন এলাকায় সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এ সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

Read More – এবার বোরো উৎপাদন ১০ লাখ টন বেশি হবে, আশা কৃষিমন্ত্রীর

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘এ বছর বোরোতে ২ কোটি ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ টন। এখন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত না আসলে বোরো ধান উৎপাদনে আর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশা করা যায়। ফলে গত বছরের তুলনায় কমপক্ষে ১০ লাখ টন উৎপাদন বেশি হবে এবার।’

মঙ্গলবার (১১ মে) সচিবালয়ে বোরো ধানের উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। সারাদেশের ৬৪ শতাংশ বোরো ধান কাটা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, বোরো ধান দেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বছরে মোট উৎপাদিত চালের ৫৫ ভাগের বেশি আসে এ বোরো থেকে। বছরে যে পরিমাণ (২ কোটি টনের মতো) বোরো উৎপাদন হয়, তার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ৭৫ হাজার কোটি টাকা।’

তিনি বলেন, ‘গত আউশ-আমনের ক্ষতি পোষাতে এ বছর বোরোর উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। বীজ, সারসহ নানা প্রণোদনা কৃষকদেরকে প্রদান করা হয়েছে। ফলে, গত বছরের তুলনায় এ বছর ১ লাখ ২৯ হাজার ৩১৩ হেক্টর বেশি (২.৭২% বেশি) জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।’

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ লাখ ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিডের আবাদ বেড়েছে। হাইব্রিড ধানের আবাদ বৃদ্ধির জন্য ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৯৭০ জন কৃষককে ২ লাখ হেক্টর জমি আবাদে ৭৬ কোটি টাকার হাইব্রিড ধানের বীজ বিনামূল্যে দেয়া হয়।’

এ বছর গড় ফলনের পরিমাণও বেশি হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর দেশে বোরো ধানের গড় ফলন ছিল প্রতি হেক্টরে ৩ দশমিক ৯৭ মেট্রিক টন, এ বছর গড় ফলন পাওয়া যাচ্ছে প্রতি হেক্টরে ৪ দশমিক ১৭ মেট্রিক টন। অর্থাৎ প্রতি হেক্টরে উৎপাদন বেড়েছে এ বছর ০ দশমিক ২০ মেট্রিক টন (৫.০৪%)।’ তবে সারাদেশের শতভাগ ধান কাটা হয়ে গেলে গড় ফলনের পরিপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবেও বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এই ফলন বেশি হওয়ার কারণ এ বছর হাইব্রিড ধানের উৎপাদন যেমন বেশি হয়েছে, উচ্চফলনশীল ধানের প্রচলন ও সম্প্রসারণও বেশি হয়েছে।’ এ সময় তিনি ব্রি-৮১, ব্রি-৮৯, ব্রি-৯২ জাতের ধান-যেগুলোর ফলন প্রতি বিঘায় ২৫ থেকে ৩০ মণ সেগুলো চাষে কৃষকদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

হিটশকে ক্ষতিগ্রস্ত বোরো চাষিদের জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে নগদ ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ১০৫ জন কৃষককে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে নগদ সহায়তা প্রদান শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। এতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।’

Facebook Comments Box