এডিটার’স মেইলবক্স: বসুন্ধরার এমডি, ভারতের কোভিড আর হেফাজতের ছবি নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে যে বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রবল আলোচনা হচ্ছে, বলতে পারেন বিতর্কের ঝড় বয়ে যাচ্ছে, তা হল ঢাকার গুলশানে একজন কলেজ ছাত্রীর অপমৃত্যু এবং তার কথিত আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে শিল্পপতি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে মামলা।

সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

”বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ দেবার মামলা হওয়ার পর তার বিদেশ যাত্রার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। কিন্তু পুলিশ এখনও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আর্থিক খাতের বহু কেলেঙ্কারির হোতা পি কে হালদারের ক্ষেত্রেও এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগেই সে দেশ ত্যাগ করেছিল। এখন দেখার বিষয় পুলিশের আইনের জোর কতটুকু আর বসুন্ধরা গ্রুপের খুঁটির জোর কত? পুলিশ কি পারবে তাকে আটক করতে? নাকি পুলিশ শুধু খুঁজতেই থাকবে?”

বিষয়টি বেশ জটিল মি. রহমান। ঢাকার বিভিন্ন পত্রিকায় ইতোমধ্যেই খবর হয়েছে, হয় মি. সোবহান, না হয় তার স্ত্রী একটি মালবাহী বিমানে দেশত্যাগ করেছেন। কিন্তু খবরটি আসলেই সত্য নাকি স্রেফ গুজব, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পুলিশের অবশ্যই এখন দায়িত্ব আছে মি. সোবহানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা। তবে এখানে একটি জিনিস মনে রাখা দরকার, পি কে হালদার পালিয়ে যেতে পেরেছিলেন ঠিকই, কিন্তু রানা প্লাজার মালিক রানা পারেননি, এবং আপন জুয়েলার্স-এর মালিকের ছেলেও কিন্তু বেশি দিন লুকিয়ে থাকতে পারেননি। কাজেই, আপনার আশঙ্কা হয়তো সত্য নাও প্রমাণিত হতে পারে।

”যাদের অঢেল টাকা পয়সা আছে তারাই দেখা যায় দেশে একটা কুকীর্তি করে নিজের প্রাইভেট জেটে করে দেশ ত্যাগ করে। বেশ কিছু দিন আগেও আমরা দেখলাম এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও অতিরিক্ত এমডিকে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামী শিকদার গ্রুপ-এর এমডি রন হক শিকদার ও তার ভাই দিপু হক শিকদার দেশ থেকে পালিয়েছে। বড় ভাই দেশে ফেরার পর তাকে গ্রেফতার করা হল, কিন্তু আদালতে জামিনও পেয়ে গেল। অর্থ বৈভব এর কাছে যদি আইন এর প্রয়োগ দুর্বল হয়, তবে আইন সবার জন্য সমান সেটা কেন বলা হয়?”

আইন তো সবার জন্য সমানই হবার কথা মি. বিল্লাহ। কিন্তু হের-ফের হয় আইনের প্রয়োগ নিয়ে, বা ঘটনা তদন্তের সময়। তদন্ত যদি সঠিক না হয় বা আইজীবীরা যদি মামলা ঠিক ভাবে না সাজান, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পার পেয়ে যেতে পারেন। শিকদার ভাইদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করা হলেও, তারা যেভাবে দেশ ছেড়ে চলে গেলেন, তা দেখে অনেকে ভাবতেই পারেন যে আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা হয়েছে। বসুন্ধরার এমডির ক্ষেত্রে তাই হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বাংলাদেশ এবং ভারতে এখন বড় দুশ্চিন্তা হচ্ছে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। বিশেষ করে ভারতে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার যে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা দেখে প্রতিবেশি বাংলাদেশে অনেকে আতঙ্কে আছেন।

”ভারতের শোচনীয় অবস্থা সম্পর্কে আমাদের সবারই জানা। তাদের কী কী ভুল ছিল তা থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। আমার মতে, গত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে আরো বেশি অর্থ বরাদ্দ করা দরকার ছিল। তারপরও যা বাজেট করা হয়েছে তা যদি ঠিকঠাক কাজে লাগানো হয় তাহলেও অনেক। কিন্তু আমাদের নেতারা কি তাদের আগের অভ্যাস বাদ দিতে পারবে? আমাদের আরো সতর্ক হওয়া দরকার। দুঃখের সাথে বলি আমাদের যেন অক্সিজেন স্বল্পতায় ভুগতে না হয়। কেউ মারা গেলেও যেন শেষ নিশ্বাসটা কমপক্ষে ঠিকমত নিতে পারে।”

সেটাই বড় প্রশ্ন মিস আক্তার। বাজেটে যে টাকা বরাদ্দ আছে, সেটা হয়তো প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট না, কিন্তু তারপরও সেই অর্থ যে ঠিকমত ব্যয় করা হবে, এবং দুর্নীতির স্রোতে অন্য কোথাও ভেসে যাবে না, তার কোন নিশ্চয়তা নেই। গত বছরের অভিজ্ঞতার পর অনেকেই আশা করেছিলেন, দেশে হাসপাতালগুলোর উন্নতি করা হবে, বিশেষ করে আইসিইউর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে, কিন্তু সেরকম কোন উন্নতি হয়েছে বলে মনে হয় না।

”করোনার ভয়াবহ ছোবলে বিপর্যস্ত ভারত। করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালে সেখানে কিভাবে বিশাল আকারে কুম্ভ মেলা হয়? কোন বিবেকে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন উপলক্ষে রোড-শো, সমাবেশ এবং গণসংযোগ করে? সরকার এবং জনগণের উদাসীনতায় আজ ভারতে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি। আমরা শুধু পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে আতঙ্কিত নই, মানবিক দিক দিয়েও আতঙ্কিত। তাছাড়া, বাংলাদেশের সরকার ও মানুষ পার্শ্ববর্তী দেশের এই ভয়াল অবস্থা দেখেও সচেতন নয়। জানি না আমাদের কী হবে। ভারতের জন্য প্রার্থনার পাশাপাশি আমাদের সর্বোচ্চ সচেতনতার প্রতি জোর দেয়া উচিত।”

আপনার চিঠিতে একটি আশঙ্কা ফুটে উঠেছে মি. শামীম উদ্দিন। ভারত যদি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার ঢেউ বাংলাদেশের উপর দিয়েও যাবে কি না। আশঙ্কাটা মোটেই অমূলক না। ইউরোপেও দেখা গেছে সংক্রমণ কখনো একটি দেশে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর জন্য মূলত মানুষের চলাফেরাকেই দায়ী করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে ভারতে করোনাভাইরাসের যে নতুন স্ট্রেইন সংক্রমিত হচ্ছে, সেটা ইতোমধ্যে ১৯টি দেশে শনাক্ত করা হয়েছে। সেজন্য ভারতের সাথে সকল যাতায়াত আপাতত: বন্ধ রাখা জরুরি।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ এর সাথে আরেকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে, আর তা হল ভ্যাক্সিন। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন ভারতের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ ঠিক করলো কি না।

প্রথমে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

”ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউট চুক্তি মোতাবেক করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন সরবরাহ করতে না পারায় বাংলাদেশে ভ্যাক্সিনাইজেশন প্রক্রিয়া কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। করোনা ভ্যাক্সিনের জন্য কেবল মাত্র একটি উৎসের উপর নির্ভর করে থাকাটা মোটেই যৌক্তিক হয়নি, সেটি এখন বাংলাদেশ বেশ বুঝতে পারছে। কিন্তু নতুন উৎস থেকে ভ্যাক্সিন সংগ্রহ করা বা দেশে ভ্যাক্সিন উৎপাদন করা বেশ সময় সাপেক্ষ হতে পরে বলে মনে করছেন অনেকে। তাহলে এখন ভ্যাক্সিনের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা আছে বলতো মনে হচ্ছে না।”

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. সরদার, ভ্যাক্সিনের জন্য শুধু ভারতের ওপর নির্ভর করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হয়নি। কর্মকর্তারা যদিও এখন বলছেন ভারত যে এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়বে তা তখন অনুমান করা সম্ভব ছিল না। তা সত্ত্বেও, কোন দেশই একটি কোম্পানি বা দেশের ওপর নির্ভর করে না। সে যাই হোক, দেরিতে হলেও বাংলাদেশ এখন বিকল্প রাস্তা খুঁজছে, চীন এবং রাশিয়ার কাছ থেকে ভ্যাক্সিন আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

Facebook Comments Box