এবার কেজিতে যত টাকা কমলো পেঁয়াজের দাম

অবশেষে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি (আইপি) দেয়ায় দীর্ঘ এক মাস চারদিন পর বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকেল থেকে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি শুরু হয়েছে। ফলে হিলির খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে।

গত শুক্রবার (৫ জুন) হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হিলি বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ার পর দাম কমেছে কেজিতে আট টাকা। বৃহস্পতিবার খুচরা বাজারে যে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়, শুক্রবার বিক্রি করা হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে।

এদিকে হিলি বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ফেরদৌস রহমান বলেন, একমাস বন্ধ থাকার পর ইম্পোর্ট পারমিট (আইপি) পাওয়ায় আবারও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হওয়াতে দাম কমেছে কেজিতে আট টাকা।

তিনি আরও বলেন, গত বুধবার ৪৭ থেকে ৪৮ টাকায় কিনে ৫০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। আমরা আমদানিকারকদের কাছ থেকে শুক্রবার ৩৮ টাকায় কিনে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। এক সপ্তাহ পর পেঁয়াজের দাম আরও কমে আসবে।

Read More – বেড়েছে ৫০, কমবে ৩ টাকা

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী সিমেন্ট খাতে কর ছাড় দিয়েছেন। ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ সহজ ও সাশ্রয়ী করতে এই কর ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে সিমেন্ট খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, বাজেটের প্রভাবে প্রতি ব্যাগ সিমেন্টে দাম তিন টাকার মতো কমতে পারে।

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে সিমেন্টের কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এরই মধ্যে প্রতি ব্যাগ (৫০ কেজি) সিমেন্টের দাম বেড়েছে ৫০–৬০ টাকা। অর্থাৎ উদ্যোক্তারা কিছুটা কর ছাড় পেলেও ভোক্তাদের জন্য কোনো সুখবর নেই। ফলে নির্মাণশিল্পেও কর কমানোর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তাঁর বাজেট বক্তব্যে বলেছেন, ‘ভৌত অবকাঠামোর অন্যতম উপকরণ হচ্ছে সিমেন্ট, লৌহ এবং লৌহজাত পণ্য। এসব পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কর–সুবিধা প্রদান করা হলে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। তাই সিমেন্ট উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে করহার ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।’ একই সঙ্গে সিমেন্ট সরবরাহে উৎসে কর কর্তনের হার ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।সিমেন্টশিল্পের সব কটি কাঁচামাল আমদানিনির্ভর। গত অর্থবছরও দেশে ১ কোটি ৮৭ লাখ টন ক্লিংকার আমদানি হয়েছে। উদ্যোক্তারা সিমেন্টশিল্পে দ্বৈত কর প্রত্যাহার এবং আমদানি পর্যায়ে টনপ্রতি শুল্কহার ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২০০ টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

জানতে চাইলে ডায়মন্ড সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল খালেক প্রথম আলোকে বলেন, ‘অগ্রিম কর সমন্বয় করার দাবি জানিয়েছিলাম আমরা। সেটা না করে কাঁচামাল আমদানিতে ১ শতাংশ কর কমানো হয়েছে। এতে খুব সামান্য সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা।’বাজেটে কর কমানোর সুবিধা দেওয়া হলেও আপাতত বাজারে সিমেন্টের দামে তার প্রভাব খুব বেশি পড়বে না। কারণ, কাঁচামালের দাম না কমলে কার্যত ভোক্তা পর্যায়ে সুখবর আসবে না। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ায় কোম্পানিগুলোও দফায় দফায় ব্যাগপ্রতি সিমেন্টের দাম বাড়িয়েছে। বাজারে এখন ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৪০৮ থেকে ৪৫০ টাকায়।

এই দর গত বছরের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৫০–৬০ টাকা বেশি। উৎপাদন খরচ সমন্বয়ের কারণ দেখিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে কোম্পানিগুলো জানিয়েছে। উৎপাদন খরচ সমন্বয় করতে সর্বশেষ আরেক দফায় ব্যাগপ্রতি ১০ টাকা দাম বাড়তে পারে বলে কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে ডিলারদের জানিয়ে রেখেছে।

সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সমিতির সহসভাপতি ও মেট্রোসেম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ায় আমদানি পর্যায়ে কর টনপ্রতি ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২০০ টাকা বা ৫ শতাংশ করা হলে তাতে অন্তত ভোক্তা পর্যায়ে কিছুটা হলেও সুবিধা মিলত। বর্তমানে লোকসান করলেও ২ শতাংশ কর দিতে হয় উদ্যোক্তাদের।

Facebook Comments Box