ওমিক্রনের প্রথম ছবি দেখে আরও আতঙ্কিত বিশেষজ্ঞরা!

১৫ বার মিউটেশন সম্পন্ন করোনাভাইরাসের ‘ভয়ঙ্করতম’ প্রজাতি ‘ওমিক্রন’ এর প্রথম ছবি প্রকাশিত হয়েছে। বোতসোয়ানা, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং হংকংয়ের ‘বিজ্ঞানী গোষ্ঠী’-র তরফে ওমিক্রনের জিনগত গঠন সহ প্রথম ছবিটি প্রকাশ করেছে রোমের প্রখ্যাত বামবিনো গেসু হাসপাতাল।

বামবিনো গেসু হাসপাতালের তরফে প্রকাশিত ওমিক্রন-এর জিনগত গঠন সম্পর্কে এক বিবৃতি দিয়ে গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, ডেল্টা’ ভ্যারিয়ান্টের তুলনায় ওমিক্রন বহুবার মিউটেশন ঘটিয়েছে এবং জিনটির একটি এলাকাতেই সমস্ত প্রোটিন ঘনীভূত হয়েছে, যেটা মানুষের শরীরের কোষের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে।’ ত্রিমাত্রিক স্পাইক প্রোটিনের’ মিউটেশন ‘ওমিক্রন’।

গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের বারবার নতুন রূপে ফিরে আসার অর্থ এটা নয় যে, এই প্রজাতি আরও ভয়ঙ্কর। তবে এই ভাইরাস অন্য রূপ বদল করে মানব প্রজাতির সঙ্গে আরও অভিযোজিত হয়ে গিয়েছে। করোনা ভাইরাসের নতুন অভিযোজিত রূপ ওমিক্রন কতটা ভয়ঙ্কর, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত নন গবেষকরা। তাদের মতে, ‘এই অভিযোজন (ওমিক্রন) যদি নিরপেক্ষ হয়, তাহলে সেটা কম বিপজ্জনক নাকি বেশি বিপজ্জনক তা অন্য গবেষণায় জানা যাবে।’

মিলান স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক ও বামবিনো গেসু-র গবেষক ক্লাউডিয়া আলতেরি বলেন, ‘গবেষক দল আপাতত মিউটেশনের ত্রিমাত্রিক স্পাইক প্রোটিনের মিউটেশনের অনুসন্ধানের উপরই গুরুত্ব আরোপ করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ওমিক্রনের যে ছবিটি প্রকাশিত হয়েছে, সেটির মাধ্যমে এই প্রজাতির অভিযোজনের সমস্ত বৈচিত্র্যের একটি নকশা ফুটে উঠেছে কেবল, এটির ভূমিকা বর্ণনা করছে না।’

ওমিক্রন কতটা ভয়ঙ্কর, মানবদেহে এর কী প্রভাব পড়ছে তা জানার জন্য হাতে-কলমে গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করেন ক্লাউডিয়া আলতেরি। তার কথায়, ‘এই মিউটেশনের সংমিশ্রণ কতটা সংক্রামক অথবা ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে কিনা তা এখন উদাহরণস্বরূপ ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে নির্ধারণ করাই বিশেষ জরুরি।’ সূত্র: টিওআই।

Facebook Comments Box