করোনাভাইরাসের নতুন ধরন: কখন বুঝবেন আপনি আক্রান্ত

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। হঠাৎ করে সংক্রমণের হার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে, বেড়েছে মৃ’ত্যুহারও। তবে আতঙ্কিত হবেন না, এখনো পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি, করোনাভাইরাসের নতুন ধরন মূল ধরনের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক। যেহেতু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও ঊর্ধ্বমুখী, তাই এর উপসর্গ সম্পর্কে জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের সাম্প্রতিক গবেষণা অনুসারে- কাশি, ক্লান্তি, গলাব্যথা ও পেশি ব্যথা বা শরীর ব্যথা হলো করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের সবচেয়ে প্রচলিত উপসর্গ। গতবছর আমরা জেনেছি, করোনাভাইরাসের অন্যতম উপসর্গ- স্বাদ ও ঘ্রাণ শক্তি হারানো। ভাইরাসটির নতুন ধরনে সৃষ্ট সংক্রমণে এই লক্ষণটির উপস্থিতি তুলনামূলক কম। এছাড়া উপসর্গ হিসেবে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া ও বমিও লক্ষ্য করা গেছে।

ইংল্যান্ডে সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় ৬,০০০ রোগীর করোনা পরীক্ষা করে দেখা যায়- ৩,৫০০ জনের করোনাভাইরাসের নতুন ধরন এবং ২,৫০০ জনের করোনাভাইরাসের মূল ধরন ছিল। গবেষক-দল উভয় ধরনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা যেসব উপসর্গে ভুগেছেন তার শতকরা হার নির্ণয় করেছেন।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরনে সংক্রমিত ৩,৫০০ জন রোগীর মধ্যে-

* ৩৫ শতাংশের কাশি ছিল

* ৩২ শতাংশের ক্লান্তি বা দুর্বলতা ছিল

* ২৫ শতাংশের পেশি ব্যথা বা শরীর ব্যথা ছিল

* ২২ শতাংশের গলাব্যথা ছিল

* ১৬ শতাংশের স্বাদের অনুভূতি উধাও হয়েছে বা খাবারে অরুচি ছিল

* ১৫ শতাংশের ঘ্রাণশক্তি ছিল না

অন্যদিকে করোনাভাইরাসের মূল ধরনে সংক্রমিত ২,৫০০ জন রোগীর মধ্যে-

* ২৮ শতাংশের কাশি ছিল

* ২৯ শতাংশের ক্লান্তি ছিল

* ২১ শতাংশের পেশি ব্যথা বা শরীর ব্যথা ছিল

* ১৯ শতাংশের গলাব্যথা ছিল

* ১৮ শতাংশের স্বাদের অনুভূতি ছিল না

* ১৮ শতাংশের ঘ্রাণশক্তি ছিল না

ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ লরেন্স ইয়ং বলেন, করোনাভাইরাসের নতুন ধরনটি (ইউকে ভ্যারিয়েন্ট) করোনাভাইরাসের মূল ধরনের তুলনায় বেশি সংক্রামক। যারা নতুন ধরনটিতে সংক্রমিত হয়েছেন তাদের শরীরে মূল ধরনের তুলনায় উচ্চসংখ্যক ভাইরাস পাওয়া গেছে। এ কারণে ভাইরাসটি আগের চেয়ে দ্রুত ছড়াচ্ছে।

ভাইরাসটি দ্রুত ছড়ানোর আরেকটি কারণ হলো এর উপসর্গ। নতুন ধরনটিতে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের একটা বড় অংশের কাশি ছিল। চিকিৎসকদের মতে, করোনাভাইরাস ও শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ সৃষ্টিকারী অন্যান্য ভাইরাস ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম হলো কাশি। এখনো পর্যন্ত যেসব তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে তা বিবেচনায় রেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের প্রধান উপসর্গ হলো কাশি। এর সঙ্গে গলাব্যথা ও তীব্র ক্লান্তিতে ভুগলে অনেকাংশে নিশ্চিন্ত হতে পারেন যে করোনাভাইরাসে আপনি আক্রান্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশে ইতোমধ্যে অনেকের শরীরে ইউকে ভ্যারিয়েন্টের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা প্রতিরোধের একমাত্র উপায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।

Facebook Comments Box