করোনা থেকে বাঁচতে দেশ ছাড়ছেন ভারতের ধনীরা

করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে দেশ ছেড়ে পালাতে একেকজন খরচ করছেন লাখ লাখ ডলার। গত সপ্তাহেই ভাইরাসের নতুন এপিসেন্টারে পরিণত হয় ভারত। দেশটিতে দেখা দিয়েছে বেড, অক্সিজেন ও শ্মশানের সংকট। নিউজ ব্রেক

হু হু করে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় নিজ দেশে থাকাটা নিরাপদ মনে করছেন না ভারতের ধনীরা। শেষ মূহুর্তের ফ্লাইট বা প্রাইভেট জেটে করে তারা বিদেশে চলে যাচ্ছেন। অনেক দেশ এর মধ্যেই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে।

ধনীদের সবচেয়ে পছন্দের গন্তব্যের একটি জায়গা হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ভারত থেকে দেশটির দূরত্ব বেশি না। তবে গত সপ্তাহের এক ঘোষণায়, ২৫ এপ্রিল থেকে দেশটি ভারতীয়দের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করে। এরপরেই দেশটিতে যাওয়ার হিড়িক পড়ে যায়।

গত শুক্রবার চার্টার কোম্পানি এয়ার চার্টার সার্ভিস ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেছেন, মানুষ পাগলের মতো প্রাইভেট জেট ভাড়া করছে। কাল আমাদের ১৬টি ফ্লাইট দুবাই যাচ্ছে। কোনওটিতে সামান্যতম জায়গাও নেই।

আরেকটি প্রাইভেট জেট প্রোভাইডার এনথ্রাল এভিয়েশন বলেছে, তারা যাত্রীদের চাহিদাই পূরণ করতে পারছেন না।সূত্রঃ ইকোনমিক টাইমস, বিজনেস ইনসাইডার

আরো পড়ুন – দিল্লিতে ফুরিয়েছে পোড়ানোর কাঠ, শ্ম’শানে লা’শের সারি নিয়ে চরম উ’দ্বেগ

ভারতে দৈনিক করো’নায় মৃ’ত্যু প্রায় ৩ হাজারে পৌঁ’ছেছে। প্রতিদিন সং’মিত হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। এমন অব’স্থায় গোটা দেশই দেখছে মৃ’ত্যুর মিছিল।

তবে পরি’স্থিতি ভয়া’বহ রূ’প নিয়েছে ভা’রতের রাজধানী দিল্লিতে। শ্ম’শা’ন’গুলোতে মৃ’তদেহ পোড়া’নোর আর জায়গা হচ্ছে না। এখন অন্ত্যে’ষ্টিক্রি’য়ার ব্যবহার করা হচ্ছে পার্কিং লট’গুলো।

এমনকি জায়গা নেই কবর’স্থা’নেও। এমন পরিস্থি’তিতে মৃ’ত’দেহ দা’হ করার কাঠ ফু’রিয়ে গিয়েছে বহু শ্ম’শা’নে। কাঠের অভাবে কেয়ারটেকারকে বন্ধ করে দিতে হয়েছে শ্ম’শা”নের দরজা। এমন করুণ পরিস্থিতিও দেখছে দিল্লি।

দিল্লিতে প্রায় প্রতিদিনই করোনায় মৃ’তের সংখ্যা ছাড়িয়ে যাচ্ছে সাড়ে তিন শর গ’ণ্ডি। গতকাল সোমবার এখন পর্যন্ত রাজধানীতে মৃ’তের সংখ্যা ৩৫০। রবিবার ৩৫৭ জন প্রা’ণ হারিয়েছিলেন ভাইরা’সের প্রকোপে। আর তার আগের দিন মৃ’ত্যুর সংখ্যাটা ছিল ৩৪৮।

গত সপ্তাহে দিল্লিতে মৃ’ত্যুর গড় হার ছিল ৩০৪। এভাবে দিনের পর দিন এত মানুষের মৃ’তদেহ সৎকার করতে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে শ্ম’শান আর কবর’স্থানের কর্ম’চারী’রা।

জানা গেছে, দিল্লির সরাই কালে খান শ্ম’শা’নে দৈনিক ২২ জনের দে’হ সৎকারের ব্যবস্থা আছে। আর আপাতত রোজই সেখানে ৬০ থেকে ৭০টি মৃ’ত’দেহ আসছে।

বিপাকে পড়ে শ্ম’শা’নের আশপাশে আরও ১০০টি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। “প্ল্যা’টফর্ম’গুলো বানাতেও অনেক চাপ লাগছে”, বলে’ছেন শ্ম’শা’নের এক কর্মচারী।

আজ মঙ্গল’বারের মধ্যে খুব বেশি হলে ২০টি নতুন প্ল্যা’টফর্ম তৈরি হবে। বাকি ৮০টি বানাতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। শ্ম’শা’নের কর্মীদের ওপর সম্প্রতি কাজের চাপ এতটাই বেড়ে গেছে যে কোনও কোনও ক্ষেত্রে মৃ’তের পরিবারের লোকজনকেও কাজে হাত লাগাতে হচ্ছে।

Facebook Comments Box