কে এই নাসির ইউ মাহমুদ, জানা গেল পরিচয়

ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা পরীমনি। রোববার রাতে এক ফেইসবুক পোস্টে অভিযোগ তোলার কয়েক ঘণ্টা পর ঢাকার গুলশানে নিজের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। ৪ দিন আগে উত্তরায় বোট ক্লাবে নাসির মাহমুদ তার উপর নির্যাতন করেছিলেন বলে অভিযোগ এই অভিনেত্রীর।

ঢাকা বোট ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাসির একজন আবাসন ব্যবসায়ী। উত্তরা ক্লাবেরও সাবেক সভাপতি তিনি। পরপর দুই বছর ২০১৪ সালে এবং ২০১৫ সালে উত্তরা ক্লাবের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন শিল্পপতি নাসির ইউ মাহমুদ। নির্বাচনে নাসির ইউ মাহমুদ ৬৭২ ভোট পান। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। তিনি ঢাকা বোট ক্লাবের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। নিজস্ব আবাসন প্রকল্প ‘কুঞ্জ ডেভলপারর্স লি.’ এর চেয়ারম্যান নাসির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। ওই সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের (এসএম হল) নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার স্ত্রী জীবিত রয়েছেন। তাদের সংসারে দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে একই আবাসন প্রকল্পের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর।

রোববার রাতে এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’ এই স্ট্যাটাস দেওয়ার ঘণ্টাখানেক পর গুলশানে নিজের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন পরীমনি।

সেখানে তিনি জানান, ‘গত বুধবার রাতে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জিমি, জিমির বন্ধুসহ উত্তরায় বোট ক্লাবে যান। ক্লাবটা তখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। এ সময় দুজন বয়স্ক ব্যক্তি এসে তাদের মদ পানের আমন্ত্রণ জানায়। তখন শরীর খারাপ বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন পরীমনি।’

পরীমণি বলছেন, ‘ওই দুজনের একজন নাসির ইউ মাহমুদ। জোরাজুরির এক পর্যায়ে আমাকে মারধর করে কিছু লোক। এক পর্যায়ে নাসির মাহমুদ আমার মুখে মদের বোতল ঠেসে ধরে গিলতে বাধ্য করেন। তখন আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান তিনি।’ প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ছাড়া পেয়ে বনানী থানায় গিয়েছিলেন জানিয়ে পরীমনি জানান, তার (পরীমনির) মুখে মদের গন্ধ থাকায় পুলিশ কর্মকর্তারা তার কথা শুনতে চায়নি। এক পর্যায়ে পুলিশ তাকে ওয়াশ করার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে তিনি বাসায় চলে যান। এর পরের দিনগুলোতে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানসহ বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

Facebook Comments Box