তীব্র গরমে পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে মুষলধারে বৃষ্টি ,

তীব্র গরমের মধ্যে রমজান মাসের রোজা পালন করছেন সৌদি আরবের মুসলিমরা। এরই মধ্যে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ শুরু হয় কাবা প্রাঙ্গণে। গতকাল (২৭ এপ্রিল) জোহর ও আসর নামাজের সময় বৃষ্টিস্নাত কাবা প্রাঙ্গণের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

পবিত্র মসজিদুল হারামের কাবা প্রাঙ্গণে সব সময় মুসল্লিদের ভিড় থাকে। করোনাকালেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে ওমরাহ পালন ও নামাজ আদায়। প্রবল বৃষ্টি মুসল্লিদের দেহ ও মনে তৈরি করে অনাবিল প্রশান্তি।

বৃষ্টিতে ভিজে মুসল্লিদের ওমরাহ পালন ও নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। প্রবল বৃষ্টি বর্ষণে তীব্র গরম থেকে ক্ষণিকের জন্য মুক্তি মেলে মুসল্লিদের। সবার মধ্যে তৈরি হয় ভিন্ন রকম অনুভূতি।

বৃষ্টিস্নাত কাবা ঘরের দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করেন মসজিদুল হারামে অবস্থানকারীরা। এদিকে করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রমজানের প্রথম ১০ দিনে ১৫ লাখের বেশি মুসল্লি পবিত্র মসজিদুল হারামে নামাজ আদায় করেছেন ও ওমরাহ পালন করেছেন। করোনা টিকা নেওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে তাঁরা পবিত্র মসজিদুল হারামে প্রবেশ করেন।

আরো পড়ুন – করোনার ভয়ে মৃতদেহ ধরল না পরিবার, শেষকৃত্য করলেন মুসলিম যুবকরা

মহামারি করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে পুরোপুরি বিধ্বস্ত ভারত। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এমন বিপর্যস্ত অবস্থায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির গড়লেন বিহারের প্রদেশের একদল মুসলিম যুবক। করোনায় মারা গেছেন মনে করে এক নারীর মৃতদেহ ছুঁতে চায়নি তার পরিবারের সদস্যরা। শেষপর্যন্ত ওই মুসলিম যুবকরাই রীতি মেনে ওই হিন্দু নারীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে ঘটনাটি।

ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন জানায়, বিহারের গয়া জেলার ইমামগঞ্জ পুলিশ স্টেশনের তেতারিয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন প্রভাবতী দেবী নামে ৫৮ বছরের ওই নারী। তাকে তড়িঘড়ি একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আরটি-পিসিআর টেস্টও করা হয়। কিন্তু সেই রিপোর্ট নেগেটিভ

আসলেও পরবর্তীতে চিকিৎসা চলাকালীনই মৃত্যু হয় ওই নারীর। করোনাতেই মারা যান তিনি-এই ভয়ে ওই নারীর স্বামী এবং দুই ছেলে মৃতদেহ নিতে রাজি হননি। ফলে দীর্ঘক্ষণ গাড়িতেই পড়েছিল মৃতদেহটি। শেষপর্যন্ত খবর পেয়ে ওই নারীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে এগিয়ে আসেন মো. রফিক, মো. শারিক, মো. কালামি, মো. বারিক, মো. লাদ্দানসহ এলাকারই বেশ কয়েকজন মুসলিম যুবক।

শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে সহযোগিতাকারী শারিক বলেন, করোনার কারণেই প্রভাবতী দেবীর মৃত্যু হয়েছে-এ আশঙ্কায় এবং ভয়ে তার স্বামী বা দুই ছেলে কেউই মৃতদেহ নিতে রাজি হননি। ফলে দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গাড়িতেই পড়েছিল তার মৃতদেহ। শেষপর্যন্ত আমরা খবর পেয়ে সকালে সেখানে যাই। আমরা কয়েকজন গাড়ি থেকে

মৃতদেহটি নামাই। এরপর বাঁশ দিয়ে খাট তৈরি করে শবদেহটি নিয়ে শ্মশানের উদ্দেশে রওনা হই। এমন সম্প্রতির উদাহরণ সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনেকেই ওই মুসলিম যুবকদের কাজের প্রশংসা করেছেন।

Facebook Comments Box