পদ্মায় ডুবে যাওয়া সেই মাইক্রো চালকের লাশ উদ্ধার

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে মাইক্রো ডুবে যাওয়ার ঘটনায় চালকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সকালে আদর গ্রামে লাশটি উদ্ধার হয়। আজ সকালে আদর গ্রামে একটি লাশ ভেসে আসলে এলাকাবাসী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওসি মো. মোন্নাফ শেখকে জানান। পরে মাইক্রো চালকের বড় ভাই ফারুক হোসেন, ছোট ভাই শাহীন হোসেনকে মাইক্রোচালক মারুফ হোসেনের লাশটি শনাক্ত করেন।

মারুফের বাড়ি সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানার সুন্দরের চক গ্রামে। ৩ কন্যাসন্তানের জনক তিনি। গেল মঙ্গলবার (১১ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটে ঝড়ের আঘাতে পল্টুনের তার ছিঁড়ে নদীতে পড়ে ডুবে যায় সাদা রঙের মাইক্রোবাসটি। বেলা দেড়টার দিকে মাইক্রোটিকে উপরে তুলতে সক্ষম হন উদ্ধারকারী দল।

ডুবন্ত মাইক্রো থেকে চালক হাত নাড়িয়ে সাহায্য চাইছিলেন বলে জানান একজন প্রত্যক্ষদর্শী। এরপর চালকের খোঁজে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রাখে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল।

Read More – আজ ভয়াল ১৩মে, মিরিকপুরের টর্নেডো দিবস

টাঙ্গাইলের বাসাইলে মিরিকপুরের টনের্ডো দিবস আজ। ১৯৯৬ সালের ১৩ মে বিকাল ৫টায় স্মরণকালের ভয়াবহ টনের্ডো আঘাত হানে। এতে সেদিন কয়েক হাজার লোক প্রাণ হারায়। । মুহূর্তের মধ্যে কয়েকটি গ্রাম লন্ড-ভন্ড হয়ে যায়। অনেকের ঘরের চালা উড়ে যাওয়ায় গোলার ধান পর্যন্ত ঝড়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। অনেক ঘরবাড়ি, গাছপালা,গবাধিপশু নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

অনেক নারী-পুরুষের পরনের কাপড় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। অনেককে সম্পূর্ণ বস্ত্রহীন ক্ষতবিক্ষত দেহে বিভিন্ন কৃষি জমি, জঙ্গল, পুকুর-ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। সন্ধা থেকে রাস্তায় শুরু হয় লাশের মিছিল। বিভিন্ন এলাকাথেকে আসতে থাকে আহত ও নিহত মানুষ বাহী গাড়ী। সে এক বিভিষিকাময় দৃশ্য। বৈদ্যুতিক খুঁটি ও নলকূপের উপরের অংশ, দালানের ছাদ পর্যন্ত উঠে যায়। ধান কাটার মৌসুম থাকায় উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার ধানকাটা শ্রমিক জড়ো হয়েছিল এ অঞ্চলে।

মিরিকপুর-সৈদামপুরের আতঙ্কগ্রস্থ মাঠের বহু শ্রমিক মিরিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দালানে আশ্রয় নিয়েছিল। দালান বিধ্বস্থ হওয়ায় তারা সেখানেই চাপা পড়ে মারা যায়। এলাকার গ্রামের বহু লোক নিখোঁজ হয়। পরদিন তাদের মৃতদেহের খোঁজ মেলে পার্শ্ববর্তী নদী, পুকুর, খাল ও বিলে। মৃত মানুষ, গবাদিপশু ও মাছের দুর্গন্ধে বাসাইলের বাতাস ভারী হয়ে গিয়েছিল।

মিরিকপুর ছাড়াও উপজেলার বর্নীকিশোরী, হান্দুলিপাড়া, কলিয়া, কাউলজানী, খাটোরা, ফুলকী, বাদিয়াজান, সুন্না গ্রামের অংশবিশেষ মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়। বর্নীকিশোরী উত্তরপাড়ার একই পরিবারের মৃতদেহ প্রায় আধমাইল দূরের বিল থেকে উদ্ধার করা হয়। অনেক পরিবারের কেউই জীবিত ছিল না। বাসাইল উপজেলা হাসপাতালসহ পার্শ্ববর্তী হাসপাতালগুলো ছিন্নভিন্ন আহত লোকজনে ভরে গিয়েছিল। উপজেলায় টর্নেডো আক্রান্ত এলাকায় একাধিক গণকবর সৃষ্টি হয়েছিল।

ঝড়ে উপজেলার ১৭ গ্রামের ৫ হাজার পরিবারের প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার লোক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ৩ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ন রুপে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫-৬টি কাঁচাবাজার, প্রায় ২০ হাজার গবাদিপশু, ১০ হাজার হাঁস-মুরগি, সাড়ে ৩০০ টিউবওয়েল ও ৩০ হাজার গাছ ক্ষতিগ্রস্ত্র হয়।

সরকারি হিসাবে মৃতের সংখা ৩৩৭ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে মৃতের সংখা ছিল কয়েক হাজার । টাকার অংকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় তিন কোটি টাকা। । আজো কালো মেঘের আনাগোনা দেখলে বাসাইলের মানুষের মনে ভেসে ওঠে সেই মিরিকপুরের ঝড়ের স্মৃতি।

Facebook Comments Box