বিকট শব্দে উড়ে গেছে দরজা জানালা, প্রা’ণ বাঁচাতে দিশেহারা হয়ে পড়ল তারা

হঠাৎ বিকট শব্দ, উড়ে গেছে দরজা জানালা, ধসে পড়েছে দেয়াল। তারপরই শোনা যায় মানুষের কান্না, আর্তনাদ। একে একে নারী ও শি’শুসহ সবাই দৌ’ড়ে বেরোচ্ছেন।

সবার শরীরে আ’গুন। প্রা’ণে বাঁ’চতে পাশের ময়লা পানিতে শুয়ে পড়েন অনেকে। পরে তাদের উদ্ধার করে পাঠানো হয় হাসপাতালে। ফতুল্লার তল্লার একটি ফ্ল্যাট বাসার তৃতীয় তলায় গ্যাস বিস্ফোরণের এমন বর্ণনা দিলেন প্রত্য’ক্ষদর্শী গা’র্মেন্টস কর্মী চিত্ত’রঞ্জন দাস।

তিনি নয়া দিগ’ন্তকে জানান, ভোর ৬টার দিকে হঠাৎ বি’কট শব্দ শুনতে পাই। পরে দেখি শরীর আ’গুন নিয়ে রুম থেকে একের পর এক বের হচ্ছে তারা। বাঁচাও বাঁচাও আর্ত’নাদ। পরে তারা গিয়ে পাশের ময়লা পানি’তে শুয়ে পড়ে।

প্রত্য’ক্ষ’দর্শী আব্দুল ওয়াহেদ নয়া দিগ’ন্তকে জানান, বিকট শব্দের বি’স্ফো’রণ। পরে বাহিরে গিয়ে দেখি দেয়াল ধসে পড়েছে। গ্যা’সের পাইপে আগুন জ্ব’লছে। তিন তলা থেকে মানুষ শরীরে আ’গুন নিয়ে ছুটে আসছে।

ভোর ছয়’টার দিকে স্থানীয় মডেল গা’র্মেন্ট’সের দক্ষি’ণ পাশে মফি’জুল ইসলামের তিন তলা বাড়ির ৩য় তলার ভাড়াটের ফ্ল্যাট বাসায় এই গ্যাস বি’স্ফো’রণের ঘট’না ঘটে। বি’স্ফো’রণে ঘরের দু’ইটি দেয়া’ল ধসে প’ড়েছে। বি’স্ফো’রণে কয়েক’জন নারী ও এক শিশু’সহ দুই পরিবা’রের ১১ জন দ’গ্ধ হয়েছেন।

দ’গ্ধ’দের মধ্যে ৫ জনকে চিকি”ৎসার জন্য ঢাকা মেডি’ক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থা’পিত শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লা’স্টিক সার্জা’রি ইন’স্টিটি’উটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাকি ৬ জনকে সদ’র জেনা’রেল (ভি’ক্টো’রিয়া) হাস’পাতালে চিকি’ৎসা দেয়া হয়।

শেখ হাসি’না জা’তীয় বার্ন অ্যান্ড প্লা’স্টিক সা’র্জারি ইন’স্টিটি’উটে ভর্তি দগ্ধ’রা হলেন, মো. হাবিবুর (৪০), তার স্ত্রী আলেয়া বেগম (৩৮), তার ছেলে লিমন (১৭), মেয়ে মিম (১৮), তিন মাসের শিশু মাহিরা।

দ’গ্ধ অ’ন্যরা হলেন মো. সোনাহার (৪০), শান্তি আক্তার (৩০), সামিউল (২৫), মনোয়ারা (২২) ও সাথী (২৫)। অপর একজনের নাম জানা যায়নি। আ’হত লো’কজ’নের বেশির ভা’গই পোশাক কার’খা’নার শ্রমিক।

স্থানীয় বাসি’ন্দারা জানান, মফি’জুল ইসলামের বাড়ির তৃতী’য় তলায় পোশাক কারখা’নায় কাজ করা ২টি পরিবার বাস করেন। রাতে চুলায় গ্যাসের চাপ না থাকায় একটি পরিবা’রের লোকজন চুলার বার্ণার বন্ধ না করেই ঘুমিয়ে পড়েন।

এতে চুলা থেকে গ্যা’স বের হয়ে রা’ন্নাঘ’রসহ অন্যান্য ঘরে ছ’ড়িয়ে জমাট বেঁধে থাকে। ভোরে রা’ন্নার জন্য চু’লায় আ’গুন জ্বালা’লে এই বি’স্ফো’রণে’র ঘটনা ঘটে। এতে বিকট শব্দ হয়ে ঘরে আগু’ন ধরে যায় এবং কক্ষের দর’জাসহ দুইটি দেয়াল ধসে পড়ে।

বিক’ট শ’ব্দ পেয়ে আশ’পাশের লোকজন এসে তাদের উ’দ্ধার করেন। পরে চিকিৎসার জন্য ৫ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সা’র্জারি ইনস্টি’টিউ’টে ও ৬ জনকে ভি’ক্টো’রিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই বাড়ির তত্ত্বা’ব’ধায়ক সা’জু বেগম বলেন, তিন তলা ভব’নের তৃতীয় তলার ডান পাশের ফ্ল্যা’টের দুটি কক্ষে মো. হাবিবুর ও মো. সোনাহার নামের দুই পরিবারের ১১ জন থা’কতেন। ভোরে হ’ঠাৎ বি’কট শব্দে বি’স্ফো’রণে তৃতীয় তলার দেয়াল ভেঙে নিচে পড়ে যায়। আ’গু’নের তাপ ছড়িয়ে পড়ে। আ’গু’নের তাপে সবগু’লো ফ্ল্যা’টের দরজা ও জানালা ভেঙে গেছে।

না’রায়’ণগঞ্জ ফা’য়ার সার্ভিস এ’ন্ড সি’ভিল ডি’ফে’ন্সের উপ সহ’কারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরে’ফিন জানান, রাতে গ্যা’সের চু’লার বার্ণার বন্ধ না ক’রায় চুলা থেকে গ্যাস বের হয়ে রা’ন্নাঘরসহ অন্যান্য ঘরে ছড়িয়ে জমাট বেঁ’ধে থাকে। ভোরে রান্নার জন্য চূলায় আগুন জ্বা’লালে গ্যাসের পাইপ লা’ইনের বি’স্ফো’রণ ঘটে।

এসম’য় তিন মাস বয়সের একটি শি’শুসহ ছয়জন নারী ও চারজন পু’রুষ আগু’নে দ”গ্ধ হন। তাদের মধ্যে শিশুটিসহ পাঁচজনকে গু’রুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে পা’ঠানো হয় এবং ছয়জনকে সদরের জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

Facebook Comments Box