বিদ্যুৎ বিলে স্ট্যাম্প ফাঁকি, সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব !

ময়মনসিংহে ঈশ্বরগঞ্জ রুপালী ব্যাংক লিমিটেড শাখার ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ বিলে রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহার না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা রয়েছে পাচঁশত টাকার বেশি যে কাগজে বিল আসবে সেই বিল কাগজে অবশ্যই দশ টাকার একটি রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহার করতে হবে। বিল পরিশোধের পর নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে রেভিনিউ স্ট্যাম্প লাগিয়েই বিলের কপি গ্রাহককে সরবরাহ করতে হবে। অথচ উপজেলার রুপালী ব্যাংক লিমিটেড শাখায় সেই রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহার না কারার কারনে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব।

গত কয়েক বছর ধরেই গ্রাহকদের বিলকপি পর্যবেক্ষণে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এদিকে, গ্রাহক কপিতে রেভিনিউ স্ট্যাম্প লাগানো না হলেও স্ট্যাম্প বাবদ বিলপ্রতি ১০ টাকা হারে মোটা অংকের অর্থ কর্তন করা হচ্ছে। প্রতি মাসে বিদ্যুৎ অফিসে দাখিলকৃত স্টেটমেন্টে যার প্রমাণ মিলেছে। ফলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ রেভিনিউ স্ট্যাম্প বাবদ অর্থ কেটে রাখলেও সরকারি কোষাগারে সে রাজস্ব জমা হচ্ছে না। গ্রাহকের বিলের বিপরীতে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় করে তা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড(পিডিবি)এর আওতায় উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে গ্রাহকরা প্রতি মাসে প্রায় ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল জমা দেন উপজেলার বেসিক ও রূপালী ব্যাংক এর মাধ্যমে।এ দুটি ব্যাংকের মধ্যে বেশীরভাগ বিল জমা হয় রূপালী ব্যাংকে। বাকি ৩০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয় মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে। পরে ব্যাংক এর মাধ্যমে যে বিলগুলো জমা দেয়া হয় তা পর্যাবেক্ষন করে দেখা গেছে ঈশ্বরগঞ্জ রূপালী ব্যাংকে জমাকৃত ৫শত টাকার উপরে প্রায় বিলের মধ্যেই নেই রেভিনিউ স্ট্যাম্প।

আবদুল জলিল অভিযোগ করে বলেন ব্যাংকটিতে আমার ১হাজার ৩ শত টাকা এবং প্রতিবেশী ফারুক ইসলামের ১ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই বিলে কোনো রেভিনিউ স্ট্যাম্প দেয়নি।

আবদুল কাদির জানান, আমার বিগত দিনে অনেকগুলি বিলে রেভিনিউ স্ট্যাম্প লাগানো হয়নি। পরবর্তীতে আবার ৬ জুন রবিবারে ৫ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি কিন্তু এতেও রেভিনিউ স্ট্যাম্প লাগানো হয়নি।

আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ)ঈশ্বরগঞ্জ, আব্দুল্লাহ আল নোমান সাংবাদিকদের জানান, ৫০০ টাকার অধিক বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করলে অবশ্যই রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প লাগানোর নিয়ম রয়েছে। আদায়কৃত বিদ্যুৎ বিলের টাকা হতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হিসেব করে রেভিনিউ স্ট্যাম্পের টাকা কেটে নেয়। ইচ্ছাকৃত রেভিনিউ না দেয়া অপরাধ।

এ বিষয়ে ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ হাসান মাহমুদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিডি২৪লাইভ কে বলেন, আমার জানামতে ২দিন আমরা রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প দিতে পারিনি। একদিন পোষ্ট অফিসে রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প ছিলোনা, অন্যদিন যে ড্রয়ারে রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প ছিলো সে অসুস্থ থাকার কারণে আসতে পারেনি। বিধায় আমরা রেভিনিউ ষ্ট্যাম্প ব্যাবহার করতে পারিনি। তাছাড়া, আমার কাছে এমন কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।তিনি আরো বলেন যে রেভিনিউ লাগায় নাই সেই খেসারত দিতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাকির হোসেন’র কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিডি২৪লাইভ কে বলেন, এ বিষয়টির সত্যতা যাচাই করা হবে। কেন হচ্ছে? তা উক্ত শাখা ব্যাবস্থাপককের কাছে জানতে চাওয়া হবে।

Facebook Comments Box