বিয়ের আগেই প্রেমিকের বাড়িতে বাচ্চা প্রসব, এলাকায় তোলপাড়

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কালা গ্রামে এক অবিবাহিত তরুণী তার কথিত প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে বাচ্চা প্র’সব করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ঘটনাটি রোববার ভোর রাতে হয়েছে। সদ্য বাচ্চা প্রসবকারী তরুণীকে প্রেমিক রাজুর পরিবার মেনে না নেয়ায় তিনি এখন একই গ্রামে দাদা শাহাদত মন্ডলের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

ওই তরুণী চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী। অপর দিকে একই গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে রাজু মিয়া (২০) এইচএসসি পরিক্ষার্থী। তরুণীর মা-বাবা ঢাকা শহরে গার্মেন্টসকর্মী হিসেবে চাকরি করেন। ওই সুবাদে মেয়েটি ঢাকা শহরে লেখাপড়া করেন।

তরুণী জানান, তার সাথে রাজুর গত পাঁচ বছর ধরে প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক চলে আসছিল। আমাদের মধ্যে মন দেনা-নেয়ার একপর্যায়ে বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্কও হয়। এর ফলে আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। ব্যাপারটি রাজুকে জানালে সে আমাকে একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বলে আমরা এখন থেকে বিবাহিত।

দিনে দিনে গর্ভের সন্তানের বয়স ১০ মাস হলে আমি ঢাকা থেকে সম্প্রতি দাদার বাড়িতে চলে আসি। আমার শরীরের তেমন কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় আমি অন্তঃসত্ত্বা তা কেউ টের পায়নি।

এদিকে রোববার ভোর ৪টার দিকে আমার প্রসব বেদনা শুরু হলে আমি দাদার বাড়ি থেকে রাজুদের বাড়িতে চলে যাই। রাজুদের বাড়ির উঠানে পুত্র সন্তানের জন্ম হলে রাজুর পরিবার তা মেনে না নেয়ায় লোকজন আমাকে সন্তানসহ দাদার বাড়িতে রেখে যায়। রাজু আমাকে বিয়ে করেছে বললেও সে আমাকে বিয়ের পক্ষে কোনো কাগজপত্র দেয়নি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রাজুর বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়া মাত্র তিনি মোবাইল ফোনটি কেটে দেন।

তবে রাজুর বাবা মহিউদ্দিন ও মা ববিতা খাতুন বলেন, রাজুর সাথে মেয়েটির কোনো সম্পর্কের খবর আমাদের জানা ছিল না। রোববার ভোরের দিকে হঠাৎ করেই মেয়েটি আমাদের বাড়িতে আসে এবং বাচ্চা প্রসব করে ও রাজুকে বাচ্চার বাবা দাবি করে।

মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টওয়ার্ড সদস্য ইদবারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার ব্যাপারটি আমরা স্থানীয়ভাবে আপস নিস্পত্তির চেষ্টা চালাচ্ছি, দেখা যাক কী করতে পারি।

Facebook Comments Box