মার্কেটে মানুষের উপচেপড়া ভিড়

ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে করোনা মহামারির মধ্যে সরকারের ঘোষিত লকডাউন শিথিল করে দোকানপাট ও মার্কেট খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউমার্কেটে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। অনেকে আবারও কঠোর লকডাউনের আশঙ্কায় আগেভাগেই ঈদের শপিং সেরে নিচ্ছেন। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে নিউমার্কেট এলাকায় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের গা ঘেষে মার্কেট করার দৃশ্য দেখা যায়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে মানুষ চলাচলে পরামর্শ দেওয়া হলেও নিউমার্কেট এলাকায় ক্রেতা ও বিক্রেতা একে অন্যের গায়ের সঙ্গে গা ঘেষে কাপড়, জুতা, টি-সার্টসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য বেচাকেনা করছেন। তীব্র গরম এবং করোনার ঝুঁকি- দুটোই উপেক্ষা করে এসব স্থানে বিরাজ করছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। সকালে কিছুটা ভিড় কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়তে থাকে।

নিউমার্কেট গেটের সামনে কাপড়ের দোকানদার মিজানুর রহমান বলছেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারের ঘোষিত লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ ছিল। এখন দোকান খোলায় কিছুটা বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে ঈদের বাজার হিসেবে খুব একটা ক্রেতাদের ভিড় নেই। যারা আসছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশই পাইকারি ক্রেতা। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে খুচরা বাজারে বিক্রির জন্য কেনাকাটা করছেন তারা।

মিরপুর-১২ নম্বর থেকে নিউমার্কেট কাপড় কিনতে এসেছেন লায়লা আক্তার পারভীন। তিনি বলেন, এতোদিন মার্কেট বন্ধ থাকায় কাপড় কিনতে পারেননি। সামনে ঈদ সেজন্য তিনি মার্কেটে কাপড় কিনতে এসেছেন। লায়লা আক্তারের মতো অনেকেই দীর্ঘদিন পর নিউমার্কেটে কাপড়, জুতাসহ অন্যান্য পণ্য কিনতে এসেছেন। সেজন্য পুরো নিউমার্কেট এলাকায় মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গরমের মধ্যেও দূর দূরান্ত থেকে মানুষ নিউমার্কেটে কেনাকাটার জন্য এসেছেন।

স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব ও মেনে চলার শর্তে খুলে দেওয়া হলেও এসব মার্কেট-শপিংমলে তা দেখা যায়নি। কেনাকাটার তোড়জোড়ে ক্রেতা-বিক্রেতা কাউকেই স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে দেখা যায়নি। অধিকাংশ দোকানই ছিল মানুষে ঠাসা। নেই সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই। শুধু মার্কেট-শপিংমলের ভেতরে দোকানই নয় বরং মানুষে ঠাসা ছিল নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতের দোকান থেকে শুরু করে ফুটওভার ব্রিজের ভাসমান দোকানগুলোও। এসব ক্রেতারা বলছেন, আবারও কঠোর লকডাউনের আশঙ্কায় আগেভাগেই ঈদের শপিং সেরে নিচ্ছেন তারা।

Facebook Comments Box