মাস্ক আছে আবার নেই, চলছে ঈদের কেনাকাটা

দোকানির মুখে মাস্ক নেই। কিন্তু মাস্ক রয়েছে তাঁর কাছেই। ক্যামেরা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দেখলেই তাঁরা মাস্ক পরছেন। মাস্ক পরার বিষয়ে বিক্রেতারা বলছেন, সব সময় মাস্ক পরে থাকা যায় না। তাদের ভালোও লাগে না। কেউ কেউ আবার বলছেন, মাস্ক পরে থাকলে ক্রেতারা কথা বুঝতে পারেন না। ক্রেতাদের অবস্থাও প্রায় একই রকম। একজন ক্রেতা জানালেন, তিনি কখনও মাস্ক পরেন না।

দেশে করোনারোধে সরকারের কঠোর বিধি-নিষেধ চলছে। গত সোমবার থেকে দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে মানুষ বের হচ্ছে। যাচ্ছে দোকানপাটে। যদিও অন্যদিনের চেয়ে আজ শপিংমলগুলোতে লক্ষ্য করা গেছে বেশি ভিড়। এদিকে ঈদের সময়ও ঘনিয়ে আসছে। ফলে কেনাকাটার আরও চাপ বেড়ে চলেছে। অথচ যে কারণে সরকার কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করল, তা উপেক্ষিত থাকছে। মানে, দোকানপাট-শপিংমলে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। এতে করোনা সংক্রমণ বাড়ার কথা বলছেন বিষেজ্ঞরা।

আজ শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীর কয়েকটি মার্কেটে এই দৃশ্য দেখা গেছে। যদিও অন্যান্যবারের ঈদের আগের সময়ের তুলনায় ক্রেতাদের সংখ্যা কম। তবু করোনা সংক্রমণের মধ্যেই আজ শুক্রবার রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। সড়ক বা শপিংমল দেখে আসলে বোঝার উপায় ছিল না, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের দেওয়া কঠোর বিধি-নিষেধ চলমান আছে। মাস্ক বা স্যানিটাইজার ব্যবহারের চেষ্টা অনেকে করেছেন। তবে এমন জনবহুল স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মানা যে সম্ভব নয়; তা স্বীকার করছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

কেন মাস্ক পরেননি জানতে চাইলে রাজধানীর নিউমার্কেটের সাইফুল নামের এক দোকানি বলেন, ‘সব সময় তো আর মাস্ক পরে থাকা যায় না। সব সময় পরা হয় না। ক্যামেরা দেখলেই মাস্ক পরা হয়।’

পাশে থাকা সবুজ নামের আরেক বিক্রেতা অন্যদিনের তুলনায় ভালো বিক্রির কথা জানিয়ে বললেন, ‘অন্য দিনের তুলনায় ভালো বিক্রি হচ্ছে। আর সরকার যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলছে, তা চাইলে মানা সম্ভব। কিন্তু আমরা তো মাস্ক নিচে নামিয়ে রাখি। কারণ, কথা বলছে ক্রেতা সব সময় ভালো বুঝতে পারেন না। এখন কী করব বলেন? কাস্টমার যেহেতু ভালো বোঝে না, সেহেতু আমাকে মাস্ক খুলে কথা বলতে হয়।’

ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটা করতে ভিড় জমেছে নিউমার্কেটে। এখানের জনসমাগম দেখে বোঝার উপায় নেই, এটা করোনাকাল। নিউমার্কেটের ওভারব্রিজের ওপর কথা হয় এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মাস্ক আমি কখনও পরি না। দোয়া পড়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। আল্লার প্রতি বিশ্বাস আছে। আমার কোনো সমস্যা হবে না ইনশাল্লাহ।’

যদিও কেনাকাটা করতে করতে আরেক ক্রেতা বলছেন, ‘মার্কেটে যে অবস্থা দেখছি। স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। এখন এখানে নিজের ইচ্ছেশক্তির ওপর সব কিছু ডিপেন্ড করে। আমরা সেইফ থাকব কি থাকব না।’

এই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করছে জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি। পরামর্শক কমিটির সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভাইরোলজিস্ট) অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘সরকার মার্কেট খুলে দিয়েছে। হয়তো অনেক কিছু ভেবে খুলে দিয়েছে। কিন্তু সমস্যাটা অন্য স্থানে। সরকার কঠোর হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করছে না। এটা কোনোভাবেই ঠিক হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই মুহূর্তে ভীষণ কঠোর হওয়া দরকার। যাতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কেউ চলাচল করার সুযোগ না পায়। আর তা না হলে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিপদে ফেলে দিতে পারে বাংলাদেশকে।’

বাংলাদেশে এই যখন পরিস্থিতি ঠিক সে সময় পাশের দেশ ভারতে প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে। ভারতের অসহায় মানুষের অবস্থায় কাঁদছে পুরো বিশ্ব। তখন দেশের বিপণিবিতানগুলোতে এমন জনসমাগম আসলে করোনা সংক্রমনের শঙ্কাই বাড়িয়ে দেয় বলে মনে করে জনস্বাস্থ্য বিশেষষজ্ঞরা।

Facebook Comments Box