মায়ের মৃ’ত্যুর খবরে বাড়ি যাওয়ার পথে স্বামী-সন্তানকে হারালেন আদুরী

মায়ের মৃ’ত্যুর খবরে ঢাকা থেকে স্বামী ও শি’শুসন্তান নিয়ে স্পিডবোটে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজে’লার টগরবন্দ ইউনিয়নের চরডাঙ্গা গ্রামে বাবার বাড়িতে যাচ্ছিলেন আদুরী বেগম। কিন্তু পথে দুর্ঘ’টনায় তার স্বামী ও সন্তান নি’হত হয়েছেন। সোমবার সকালের এই দুর্ঘ’টনায় নিজেও গুরুতর আ’হত হয়েছেন তিনি।

নিজের শরীরে আ’ঘাত, তার ওপর স্বামী-সন্তান হা’রানোর শোক। সব মিলিয়ে বাকরুদ্ধ আদুরী। পু’লিশ ও স্থানীয় লোকজন তাকে নিয়ে যান উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঘাটে গিয়ে একমাত্র জীবিত যাত্রী হিসেবে তাকেই পাওয়া যায়। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্বামী-সন্তানের লা’শ নিয়ে বোয়ালমা’রীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন আদুরী।

জানা গেছে, সকালে মাদারীপুরের শি’বচরে বালুবোঝাই বাল্কহেড ও স্পিডবোটের সং’ঘর্ষের ঘটনায় ২৬ জনের লা’শ উ’দ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে আদুরী বেগমের স্বামী আরজু সরদার (৫০) ও ছে’লে মো. ইয়ামিন সরদার (২) রয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে জীবিত উ’দ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আদুরী একজন।

স্থানীয়রা জানায়, ফরিদপুরের বোয়ালমা’রী উপজে’লার শেখর ইউনিয়নের পঁচা মাগুরা গ্রামের পান্নু সরদারের ছে’লে আরজু সরদারের (৫০) সঙ্গে পাশ্ববর্তী আলফাডাঙ্গা উপজে’লার টগরবন্দ ইউনিয়নের চরডাঙ্গা গ্রামের ইকরাম মোল্লার মে’য়ে আদুরী বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আরজু সরদার স্ত্রী’ আদুরীকে নিয়ে ঢাকাতেই থাকতেন। ঢাকায় ব্যবসা করতেন আরজু সরদার। রোববার রাতে শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম মা’রা যাওয়ার খবর শুনে স্ত্রী’-সন্তান নিয়ে আলফাডাঙ্গা উপজে’লার টগরবন্দ ইউনিয়নের চরডাঙ্গা গ্রামের শ্বশুরবাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা দেন আরজু সরদার। কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর আগেই সন্তানকে নিয়ে চলে গেলেন পরপারে।

আলফাডাঙ্গা উপজে’লার চরডাঙ্গা গ্রামের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আরিফুল ইস’লাম জানান, স্পিডবোটে পদ্মা নদী পার হওয়ার সময় তারা দুর্ঘ’টনার শিকার হন। ঘটনাস্থলেই আরজু সরদার ও তার শি’শু সন্তান ইয়ামিন মা’রা যায়। গুরুতর আ’হত হন স্ত্রী’ আদুরী বেগম। আরজু সরদার ও ছে’লে ইয়ামিনের ম’রদেহ বোয়ালমা’রীর শেখর ইউনিয়নের পঁচা মাগুরা গ্রামে আনা হচ্ছে।

বোয়ালমা’রী উপজে’লার শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইস্রাফিল মোল্লা জানান, এটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। আরজু সরদার আমা’র ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দুই বিয়ে করলেও প্রথম স্ত্রী’র ঘরে একটি মে’য়ে ছিলো, সেও আগেই মা’রা গেছে।

তিনি আরো জানান, দ্বিতীয় স্ত্রী’ আদুরী বেগমের ঘরে মো. ইয়ামিন সরদার নামে একমাত্র ছে’লে সন্তান ছিলো। তার সংসারে স্ত্রী’ আদুরী ছাড়া আর কেউ রইলো না। আরজু সরদার ও ছে’লে ইয়ামিনের ম’রদেহ বাড়িতে আনা হচ্ছে। ম’রদেহ আসার পর বোয়ালমা’রী থা’না পু’লিশের সঙ্গে পরাম’র্শ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ট্রাফিক পু’লিশের পরিদর্শক আশিকুর রহমান বলেন, মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে একটি স্পিডবোট বাংলাবাজার ফেরিঘাটের দিকে যাচ্ছিল। স্পিডবোটটি বাংলাবাজার ফেরিঘাটের পুরোনো কাঁঠালবাড়ি ঘাটের কাছাকাছি আসার পর বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে সং’ঘর্ষ হয়। এতে স্পিডবোটটি উল্টে যায়। এ ঘটনায় ২৬ জনের প্রা’ণহানি হয়। এঘটনায় মাদারীপুর স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজাহারুল ইস’লামকে প্রধান করে ছয় সদস্যদের ত’দন্ত কমিটি গঠন করেছেন জে’লা প্রশাসক রহিমা খাতুন। এছাড়া নি’হত প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়।

জে’লা প্রশাসক রহিমা খাতুন বলেন, ত’দন্ত কমিটিকে আগামী তিন কর্ম’দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। লকডাউনে স্পিডবোট বন্ধ থাকার পরেও কেন এমন দুর্ঘ’টনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্পিডবোটটি মুন্সিগঞ্জ থেকে ছেড়ে বাংলাবাজার আসে। তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্পিডবোট ছাড়ে। এসব বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এ ঘটনায় আ’হত অবস্থায় উ’দ্ধার স্পিডবোটের চালককে আ’ট’ক করা হয়েছে। তাকে পু’লিশের নজরদারিতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান শি’বচর থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন।

Facebook Comments Box