মৃত্যুপুরী দিল্লিতে আরও ৩৫০ মৃত্যু

করোনাভাইরাস সংক্রমণে বিপর্যস্ত ভারতের রাজধানী দিল্লি। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরটিতে আরও ২২ হাজার ৯৩৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৩৫০ জনের।রোববার (২৫ এপ্রিল) প্রচারিত স্বাস্থ্য বুলেটিনের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

দিল্লিতে বর্তমানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৯৪ হাজার ৫৯২ জন। শহরটিতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১০ লাখ ২৭ হাজার ৭১৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ২৪৮ জনের।

দৈনিক পরীক্ষা বিবেচনায় সংক্রমণের হার ৩০ দশমিক ৩১ শতাংশ। রোববার যা ছিল ৩২ দশমিক ২৭ শতাংশ। বর্তমানে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে আরটিপিসিআর এবং র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন মিলিয়ে মোট ৭৫ হাজার ৯১২টি টেস্ট করা হয়েছে।

শহরটিতে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২১ হাজার ৭১ জন। মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৯ লাখ ১৮ হাজার ৮৭৫ জন।শনিবার দিল্লিতে দৈনিক সর্বোচ্চ ২৪ হাজার ১০৩ জনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এদিন মৃত্যু হয় ৩৫৭ জনের।এমন অবস্থায় প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী অরভিন্দ কেজরিওয়াল আগামী ৩ মে পর্যন্ত লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন।

Read More – সমুদ্রতলের পানির চাপে ফেটে যায় সাবমেরিনটি, ভিতরে পাওয়া যায় জায়নামাজ

ইন্দোনেশিয়ার রয়েছে পাঁচটি সাবমেরিন। তার মধ্যে একটি কেআরআই নাংগালা-৪০২। গত বুধবার প্রশিক্ষণ মহড়ায় পানিতে ডুব দিয়ে নিখোঁজ হয় সাবমেরিনটি। জার্মানির তৈরি এই সাবমেরিনটি ৪০ বছরেরও বেশি পুরনো। তবে ২০১২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠিয়ে এটি আরও উন্নত করা হয়। সেটিই ৫৩ জন নাবিক নিয়ে বালি দ্বীপের কাছে সমুদ্রে টর্পেডো মহড়া চালানোর সময় গায়েব হয়ে যায়।

গত বুধবার মহড়ার জন্য নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে শেষ যোগাযোগ করা হয় সাবমেরিনটি থেকে। অনুমতি চাওয়া হয় সমুদ্র গভীরে ডুব দেবার জন্য। অনুমতিও মেলে, কিন্তু তার পরপরই হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সাবমেরিনটি।

টানা উদ্ধার অভিযানের পর গতকাল শনিবার সাবমেরিনটির বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ মেলে। যেসব জিনিস পাওয়া গেছে তার মধ্যে রয়েছে জায়নামাজ, গ্রিজের একটি বোতল যা লুব্রিক্যান্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়, একটি যন্ত্র যা টর্পোডের হাত থেকে জাহাজটিকে রক্ষায় সাহায্য করে।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর প্রধান ইওদো মারগোনো বলছেন যেখান থেকে সাবমেরিনটি নিখোঁজ হয়েছে তার কাছেই এর কিছু অংশ পাওয়া গেছে। ইন্দোনেশীয় বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা এয়ার মার্শাল হাদি তিজাহজানতো বলেন, সাবমেরিনের সর্বশেষ অবস্থানের কাছেই এসব জিনিস পাওয়া গেছে। এগুলো সাবমেরিনের অংশ বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তীব্র চাপে না ফেটে গেলে সাবমেরিন থেকে এসব জিনিস কখনো বের হয়ে আসার কথা নয়।

কিন্তু এভাবে কেন নিখোঁজ হলো সামরিক কাজে ব্যবহৃত একটি সাবমেরিন। তা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে। স্ক্যান করে দেখা গেছে ডুবোজাহাজটি সমুদ্রের যতোটা গভীরে চলাচল করতে পারে, এটি তারচেয়েও অনেক গভীরে তলিয়ে গেছে।

নৌবাহিনী বলছে সাবমেরিনটিতে কোনো সমস্য ছিল না। তবে জাহাজটি যেখানে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে সেখানে কিছু তেল দেখতে পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে তেলের ট্যাঙ্কের হয়তো কোনো ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক বিপর্যয়েরও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে সাবমেরিনটি ৩০০ ফুট সমুদ্র গভীরে চলাচলে সক্ষম ছিল। সর্বোচ্চ ৫০০ ফুট সমুদ্রতলের পানির চাপ সহ্য করার ক্ষমতা ছিল সাবমেরিনটির। কোনো না কোনো গোলযোগের কারণে এর চেয়ে গভীরে নেমে যাওয়ায় সেটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে ধারণা করা হচ্ছে। আর যে গভীরতায় সাবমেরিনই টিকে থাকতে পারেনি সেখানে মানুষের বাঁচা তো অলিক কল্পনা। তবুও অলৌকিকভাবে ফিরে আসুক তরতাজা প্রাণগুলো এটাই চাওয়া বিশ্ববাসীর।

Facebook Comments Box