লক ডাউন বাড়তে পারে ১৫ মে পর্যন্ত

৫ মে পর্যন্ত লকডাউন দিয়ে রেখেছে সরকার। এরপর থেকে ঈদ পর্যন্ত মাত্র তিন কর্মদিবসে সরকারি ছুটি নেই। ঐ তিনদিন অফিস বন্ধ রাখলে টানা লকডাউন চলতে পারে ১৫ মে পর্যন্ত। করোনা মোকাবিলায় এরকম ভাবছে সরকার। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, খুব শিগগিরই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ৫ মে। এরপর ঈদের ছুটি শুরু হবে ১২ মে থেকে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৩ বা ১৪ মে হতে পারে ঈদ। এর আগে কর্মদিবস আছে ৬ মে বৃহস্পতিবার। ৭ ও ৮মে শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। ৯ মে রোববার খোলা থাকলেও ১০ মে শবে কদরের বন্ধ। আর শেষ কর্মদিবস ১১ মে মঙ্গলবার।

লকডাউন দেয়ায় দেশে করোনা সংক্রমণের হার কমছে। ঈদ পর্যন্ত এই তিন দিন বন্ধ থাকলে লকডাউন ১৫ মে পর্যন্ত টানা সম্ভব। ভারতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার এভাবে ভাবছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জানা গেছে, লকডাউন বাড়ানোর চিন্তা থাকলেও ঈদের আগে গণপরিবহন সীমিত পরিসরে খুলে দেয়া হতে পারে।

বিশ্বে প্রতিদিন ৪ মৃত্যুর ১ জন ভারতীয়

করোনার প্রকোপ পাল্টে দিয়েছে ভারতের স্বাভাবিক চিত্র। হাসপাতালগুলোর বাইরে রোগীর ভিড়। ওষুধ, অক্সিজেনের দোকানের সামনে দিন দিন বাড়ছে মানুষের হাহাকার। শ্মশানে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। শেষকৃত্যর আয়োজন চলছে অস্থায়ীভাবে।

তবে সংক্রমণের পাশাপাশি দেশটিতে যে ভাবে মৃত্যু বেড়ে চলেছে, তাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও। কারণ এই মুহূর্তে যে হারে মৃত্যু বেড়ে চলেছে গোটা বিশ্বে, তার ২৫ শতাংশ ভারতেই ঘটছে।

গত ২৮ এপ্রিলের যে হিসেব পাওয়া গিয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, ওই দিন সারা বিশ্বে ১২ হাজার ৩০৩ জন করোনা রোগী প্রাণ হারান। এর মধ্যে শুধুমাত্র ভারতেই মারা যান ৩ হাজার ২৯৩ জন। অর্থাৎ প্রতিদিন বিশ্বে করোনায় যত মৃত্যু ঘটছে, তার প্রতি ৪ জনের মধ্যে ১ জন ভারতের।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় এই মুহূর্তে ধুঁকছে ভারত। এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৮৭ লক্ষ ৬২ হাজার ৯৭৬ জন মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন দেশে। মৃত্যু হয়েছে ২ লক্ষ ৮ হাজার ৩৩০ জনের।

গত বুধবার থেকে দেশে দৈনিক মৃত্যু ৩ হাজারের উপরেই রয়েছে। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। সেখানে দৈনিক মৃত্যু ১০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে।

মৃত্যুর নিরিখে এই মুহূর্তে বিশ্ব তালিকায় চতুর্থ স্থানে ভারত। তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা এখনো পর্যন্ত মৃত্যু ৫ লক্ষ ৭৫ হাজার ১৯৩। ৪ লক্ষ ১ হাজার ১৮৬ মৃত্যু নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ব্রাজিল। তৃতীয় স্থানে রয়েছে মেক্সিকোতে মোট মৃত্যু ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৪৪৭।

এখানে উল্লেখ্য যে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দেশে দৈনিক সংক্রমণ ৩ হাজারের উপরেই রয়েছে।

এমন পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে যে কোনো দেশের পরিস্থিতি ভারতের মতো ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

এদিকে, করোনায় থাবায় বিদেশে থেকে ত্রাণ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ভারত।
দরিদ্র দেশের তকমা কাটিয়ে উঠতে ১৬ বছর আগে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে বিদেশি সহায়তা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

করোনা সামাল দিতে এখন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়ার মতো দেশ তো বটেই, প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের কাছ থেকেও সাহায্য নিতে আপত্তি নেই দিল্লির। তবে এখনো প্রতিবেশী পাকিস্তান থেকে সাহায্য নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি ভারত।

Facebook Comments Box