সাতক্ষীরায় কঠোর লকডাউন, অতঃপর

করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ৫ জুন থেকে সাতক্ষীরায় চলছে ৭ দিনের কঠোর লকডাউন। আর এই লকডাউন বাস্তবায়ন করতে রাস্তায় রাস্তায় নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে চেকিং করছে পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে পরিচালনা করা হচ্ছে মোবাইল কোর্ট। মানুষকে ঘরমুখী করতে প্রাণপণ চেষ্টা করছে প্রশাসন।

তবে নানান অজুহাত দেখিয়ে প্রশাসনকে বোকা বানিয়ে অবাধে চলাচল করছেন অধিকাংশ জনসাধারণ। কোন কোন সময় নিজের বা অপরের জীবিত আত্বীয়-স্বজনকেও মৃত বানিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন তারা। ফলে করোনার এই কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষের এসব অজুহাতের কারনে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে ধারণা করছেন অনেকেই।সোমবার(৭ জুন) দিনভর সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউজ মোড়, খুলনা রোড মোড়, লাবণী,ল মোড়, সঙ্গীতার মোড়সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ওই দৃশ্য লক্ষ করা গেছে।

সাতক্ষীরা শহরের সঙ্গীতা মোড়ে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য অযথা মানুষের যাতায়াত বন্ধ করতে দায়িত্বে ছিলেন সদর থানার এএসআই জাকির হোসেন। এসময় তিনি জনসাধারণের বাইরে আসার কারণ জানতে চাইলে তারা নানান অজুহাত দেওয়া শুরু করেন।

‘চিকিৎসা গ্রহণের জন্য হাসপাতালে, ঔষধ ক্রয়ের জন্য দোকানে, কেউবা কোর্টে আবার কারো বা নিকট আত্বীয় মারা গেছেন’ বলে নানান অজুহাত দিতে থাকেন তারা। আর ওই অজুহাতেই পার পেয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে বিনা প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়ায় বহু বাইসাইকেল, মটরভ্যান, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের চাবি জব্দ করে আবার দিনশেষে তাদেরকে সতর্ক করে যানবাহনের চাবি ফেরত দেয় পুলিশ।

এছাড়াও শহরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা যায় মাস্ক না পরে বেরোলেই পুলিশ আটকাচ্ছেন। একেক জন ব্যক্তি একেক রকম যুক্তি দিচ্ছেন পুলিশকে। কেউ বলছেন মাস্ক ধুয়ে দিয়েছেন তাই না শুকোনোয় সেটা পড়ে বের হতে পারেননি। আবার অনেকে মাক্স পকেটে নিয়ে ঘোরাফেরা করছেন।

তাদের দাবি, মাস্ক পরে কানে ব্যথা লাগছে তাই খুলে পকেট রেখেছেন। আরেক মাঝবয়সী এক ব্যক্তির দাবি, বাড়ি থেকে সবেমাত্র বেরিয়েছি বাজারে ঢুকে মাক্স পড়বেন। এসময় জেলা শহরসহ শহরের বাইরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মানুষের অযথা চলাচল নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বরত বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ পথচারীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, প্রশাসন তাদের সাধ্যমতো কাজ করছে। সরকার দফায় দফায় প্রচার করছে। চারিদিকে ঘোষণা চলছে। তবে দুঃখের বিষয় কিছু মানুষ চলমান লকডাউনের তোয়াক্কা না করে তারা তাদের মতো চলাফেরা করছেন। এতেকরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

তারা আরো বলেন, সাতক্ষীরার শহর সহ শহরের বাইরে অনেক মানুষ কোনও কাজ না থাকলেও বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন। পুলিশ আটকাতে সেসব মানুষের যুক্তি বা অজুহাত কিন্তু মুখে লেগে রয়েছে। অনেকের গাড়িতেই প্রেস লেখা। কিন্তু বিশেষ কোনও সংবাদ মাধ্যমে কাজ করার আইডি কার্ড নেই। আসলে কঠিন পরিস্থিতিতেও মানুষের অজুহাত রয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতেও যদি মানুষ সচেতন না হয় তাহলে আগামী দিনে আরো কঠিন পরিস্থিতির শিকার হওয়া লাগতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা

Facebook Comments Box