সাত সকালে ভয়াবহ দুর্ঘটনা শিবচরে, নিহত ১৪; উদ্ধারকাজ চলছে

মাদারীপুরের শিবচরে বালুবোঝাই বাল্কহেড ও স্পিডবোর্ডের সংঘর্ষের ঘটনায় ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে আরও বেশকয়েকজন। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। সোমবার (০৩ মে) ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তিনি জানান, আহত কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে স্পিডবোটটি শিমুলিয়া থেকে আসছিল। ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালে বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

শিবচরের বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক আশিকুর রহমান জানান, ভোরে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে স্পিডবোটে ২২-২৪ জন যাত্রী নিয়ে মাাদরীপুরের শিবচরের বাংলাবাজারের দিকে আসছিল।

ঘাটের কাছাকাছি আসলে ঘাটের কাছে নোঙর করা বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে স্পিডবোটটি উল্টে যায়। খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাঁতরে তীরে উঠছেন ৪ জন। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছে বেশ কয়েকজন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।

Read More – নন্দীগ্রামে হারলে মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন মমতা?

নন্দীগ্রামে মমতা ব্যানার্জী জিতেছেন, নাকি শুভেন্দু অধিকারী জিতেছেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। এদিকে সংবাদ সংস্থা এএনআই এক টুইট বার্তায় জানিয়েছে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরে ১২০০ ভোটে জিতেছেন মমতা। কিন্তু পরে জানা যায় শুভেন্দু জিতেছেন।

আনন্দবাজারকে সে কথা জানান বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু নিজেই। এই ঘটনা নিয়ে কমিশনের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা ব্যানার্জী। বিজেপির সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তবে নন্দীগ্রামে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেও হেরে গেছেন দলটির নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, ভোটে হারার পর টানা তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন মমতা? ভারতীয় গণমাধ্যম এবিপি-আনন্দের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটে হেরে গেলেও মমতার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ রয়েছে ভারতের সংবিধানে।

তবে কিছু নিয়মের মধ্য দিয়ে যেতে হবে তাঁকে। সংবিধানে বলা আছে, কেউ হেরে যাওয়া সত্ত্বেও তাঁর দল যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং দলের নতুন বিধায়কেরা তাঁকে নেতা বা নেত্রী নির্বাচিত করেন, তাহলে ওই প্রার্থীর মুখ্যমন্ত্রী হতে আইনি বাধা নেই।

তবে তাঁকে ওই পদে বসার দিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে প্রত্যক্ষ ভোটে জিতে আসতে হবে। সে ক্ষেত্রে মমতাকে নির্বাচনের পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে যে কোনো একটি আসন থেকে উপনির্বাচনে জিতে আসতে হবে।

তার জন্য তৃণমূলের কোনো একজন নির্বাচিত বিধায়ককে পদত্যাগ করতে হবে। উপনির্বাচনে জয় পেলে মমতা অনায়াসে পাঁচ বছরের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাতে পারবেন। এবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা।

প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু এক সময় মমতার ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। এবার ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। নন্দীগ্রামে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে মমতা-শুভেন্দুর।

নানা নাটকীয়তা শেষে এ আসনে চূড়ান্তভাবে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে শুভেন্দুকে। নির্বাচন কমিশন জানায়, নন্দীগ্রাম আসনে এক লাখ ৯ হাজার ৬৭৩ ভোট পেয়েছেন শুভেন্দু। আর মমতা পেয়েছেন এক লাখ ৭ হাজার ৯৩৭ ভোট।

২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস যখন পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছিল, তখনো মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গের এমএলএ ছিলেন না। পরে উপনির্বাচনে জেতেন তিনি। ২০১৭ সালে যোগী আদিত্যনাথ যখন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হন তখনো তিনি উত্তর প্রদেশের এমএলএ ছিলেন না। তিনিও পরে উপনির্বাচনে জেতেন।

Facebook Comments Box